একটি সঙ্গীত সন্ধ্যা ও ফিরে দেখা জাতীয়তাবাদ
গত ১২ই এপ্রিল কলকাতার হো চি মিন সরণিতে Indian Council of Culture and Research (ICCR) এর প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছলাম সকন্যা। উপলক্ষ্য একটি গীতিআলেখ্যের সাক্ষী হওয়া। যেমন তেমন কোনো অনুষ্ঠান নয়, ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল পঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালা বাগে ইংরেজ সরকার ঘটিয়েছিল এক নারকীয় হত্যালীলা। আজ শতাব্দী অতিক্রান্ত। একশ বছর পরের মানুষ ফিরে দেখবে, স্মরণ করবে শহীদের আত্মত্যাগ, অনুভব করবে শহীদের পরিবারের যন্ত্রণা।
অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছটার কিছু আগেই পৌঁছে গেছি। স্বনামধন্যা রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী প্রমিতা মল্লিকের গানের দল বৈকালী পরিবেশন করতে চলেছে যে গীতিআলেখ্য, তা কেবলই কয়েকটি গান নয়, এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ঘটনার বিবরণ, বিশ্লেষণ, অতীতের প্রামাণ্য ফটোগ্রাফ, চিঠি ও অন্যান্য নথি, অর্থাৎ এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ গবেষণা। এসব কথাই আমি শুনেছি বল্লরীদির কাছে। বল্লরীদি আমার কলেজের সহকর্মিনী, সুগায়িকা, প্রমিতাদির ছাত্রী এবং অবশ্যই বৈকালীর সক্রিয় সদস্যা। ওর কাছেই শুনেছি, প্রমিতাদি অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের কাকীমা। কোয়েল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন পঞ্জাবী রানে পরিবারের সঙ্গে। সে পরিবারের অনেকেই আজ উপস্থিত থাকবেন। রানে পরিবারের বর্তমান সদস্যরা পূর্বপুরুষের আত্মত্যাগের এই স্মরণ অনুষ্ঠানের অংশীদার।
ধীরে ধীরে প্রেক্ষাগৃহ ভরে উঠছে। এদিনের কিছু টিকিট বিক্রি হয়েছে, বাকি সকলেই আমন্ত্রিত। প্রমিতাদি ঘোষণা করলেন, যদি কোনো অতিথি বসার জায়গা না পান, তাহলে তাঁর ছাত্র ছাত্রীরা যেন আসন ছেড়ে দিয়ে নিজেরা মাটিতে বসেন। প্রেক্ষাগৃহ ভরে গেলে কয়েকজনকে সত্যি সত্যিই কার্পেটে বসতে দেখলাম। মানুষকে সম্মান করা, গুরুকে মান্য করা এই সংস্কারগুলি আমার কন্যা যত সচক্ষে দেখতে পায়, ততই মঙ্গল।
প্রেক্ষাগৃহে ক্রমে আলো কমে আসে, মঞ্চে পর্দা ওঠে। মঞ্চ জুড়ে বৈকালীর কুশীলবেরা যেযার আসনে রয়েছেন দুই সারিতে। মঞ্চে নরম হলুদ আলো। ডানদিকে বেদীর ওপর রয়েছেন তিনজন। মাঝে প্রমিতাদি নিজে, তিনি বাংলা ভাষ্য পাঠের দায়িত্বে। একপাশে ইংরেজি ভাষ্যে রয়েছেন মনোজিত। অন্যপাশে হারমোনিয়াম শিল্পী। মঞ্চের বামদিকে তিনজন যন্ত্রশিল্পী। বল্লরীদি দীর্ঘাঙ্গী, তাই ও গায়ক গায়িকাদের পিছনের সারিতে রয়েছে। আজ বল্লরীদির আর আমার দুজনের মনই ভারী। হৃদয়ে শোক। কারণ আজ দুজনেই হারিয়েছি একজন পিতৃপ্রতিম ব্যক্তিত্বকে। পি জি হসপিটালের অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন সুপার দেবদ্বৈপায়ন চট্টোপাধ্যায় আজ চলে গেলেন। আকস্মিক অসুস্থতায় জীবন মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়ানো আমি তাঁর জন্য নবজীবন পেয়েছিলাম। আমার আয়ুর জন্য আমি তাঁর কাছে ঋণী। বল্লরীদির মুখে আমি ওর হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি।
গীতি আলেখ্যের নাম “একটি বাগানের কথা”। যন্ত্রসঙ্গীত শুরু হয়। জালিয়ানওয়ালা বাগের মনের কথা বলে চলেন প্রমিতাদি নিজে। একটি নারকীয় হত্যাকাণ্ডে মৃত অসংখ্য শহীদের স্মারক বুকে নিয়ে বাগানের হাহাকার তাঁর বাচিক দক্ষতায় মূর্ত হয়ে ওঠে। অনেকদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা ইতিহাসের পাতাগুলি খুলতে থাকে। মঞ্চে লালচে আলোর আবহে দ্রিমি দ্রিমি বাজনা বাজতে থাকে। শিল্পীদের কন্ঠে বেজে ওঠে
“প্রচণ্ড গর্জনে আসিল একি দুর্দিন, দারুণ ঘনঘটা, …….. ”
একে একে পরতে পরতে প্রকাশিত হয় বীভৎস রাওলাট আইন, দেশনেতাদের গ্রেফতার, অত্যাচারী বিদেশী শাসনে ছটফট করা দেশবাসীর যন্ত্রণা। শুধু সন্দেহের বশে যে কারোকেই জেলে পোরা যাবে। দেশ জুড়ে অসন্তোষ আর প্রতিবাদের ঝড়। পর্দায় ফুটে ওঠে অত্যাচারী ইংরেজ আধিকারিকদের ছবি আর তাদের কৃতকর্মের প্রামাণ্য নথিপত্রের দলিল দস্তাবেজ। বাংলায় প্রমিতাদি এবং ইংরেজিতে মনোজিতের গ্রন্থনা ও হার্দিক উপস্থাপনা মঞ্চে সেই কালাদিনগুলিকে ফিরিয়ে আনে। অনুভব করি শিরা উপশিরাগুলি দ্রুত রক্ত প্রবাহের সঙ্গে শক্ত হয়ে উঠেছে।মধ্যে মধ্যে গানগুলি যেন ধারালো অস্ত্র, হৃৎপিণ্ড টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে।
ভাষ্য শুরু হয় ঐ হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগের ধারাবিবরণী থেকে। ৬ই এপ্রিল, ১৯১৯। দেশ জুড়ে সত্যাগ্রহের ডাক দিয়েছেন গান্ধীজী। কিন্তু তার কয়েকদিন আগেই, অর্থাৎ ৩১শে মার্চ দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদ মিছিলে ইংরেজের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কিছু সাধারণ মানুষ। স্বামী শ্রদ্ধানন্দ দিল্লির জুম্মা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ডাক দিয়েছেন হিন্দু, মুসলিম ঐক্যের। পঞ্জাবের পথে পথে স্বদেশী আন্দোলন জোয়ারের ঢেউএর মতো আছড়ে পড়ছে। পঞ্জাবে ঢোকার আগেই গান্ধীজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইংরেজ শাসকদের আচরণে ফুটে উঠছে অতি প্রতিক্রিয়াশীলতা। ছয় দশক আগের সিপাহী বিদ্রোহের মতো এই অহিংস অসহযোগ আবার শাসনের ভিতে কোনো বড় ধাক্কা দেবেনাতো! শঙ্কিত ইংরেজ শাসক ১০ই এপ্রিল পঞ্জাবের জাতীয়তাবাদী নেতা সত্যপাল এবং সইফুদ্দিন কিচলুকেও বন্দী করল। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল পথে ঘাটে, বাজারে, অফিসে সর্বত্র। কয়েকজন ইংরেজও সেই রোষের আগুনে ঘায়েল হল। পঞ্জাবে মার্শাল আইন জারী হল। ভারতীয় জনসাধারণকে বাড়ি থেকে বেরোতে হলে পথে হামাগুড়ি দিয়ে চলতে হবে এই নির্দেশ জারী হল। কারোর ওপরে বিন্দুমাত্র সন্দেহ হলেই তার জল, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হতে লাগল। ভাষ্য, ছবি, আলোয় সেদিনের দৃশ্যকল্প এমনভাবে ঐ প্রেক্ষাগৃহে ঘুরে বেড়াচ্ছে, মনে হচ্ছে আমি যেন সেযুগেরই মানুষ। প্রেক্ষাগৃহের বাতাস, দেওয়াল কাঁপিয়ে মঞ্চের কুশীলবেরা গাইছেন,
“কারার ঐ লৌহকপাট ভেঙে ফেল, কররে লোপাট….. শিকল পূজার পাষাণবেদী……”।
গানটি সেই ছোটোবেলা থেকে কতবারইতো শুনেছি, রোমাঞ্চিত হয়েছি। কিন্তু আজকের মতো কখনোই এমনভাবে অনুভব করিনি, কি পরিস্থিতিতে এই আগুনঝরা, ব্যথাভরা গান কলমের মুখে বেরিয়ে আসে।
আন্দোলন চলে নিজের গতিতে। সাধারণ মানুষের জীবনের ছন্দ ব্যাহত হলেও বন্ধ হয়না। বৈশাখী উৎসবের দিন চলে আসে। দলে দলে গ্রামের মানুষের ঢল নামে অমৃতসরের পথে। তারা এসেছে স্বর্ণমন্দিরে প্রণাম করতে। মঞ্চে শুরু হয় ওয়াহে গুরুর নামে প্রার্থনা সঙ্গীত। ভাষা জানিনা, তবু কানে বড় মিষ্টি লাগে। কয়েকটি চেনা শব্দ শুনে মনে হয়, সবার সুখ চাওয়া হচ্ছে। ছোট বড় সবার গায়ে নতুন পোষাক। জালিয়ানওয়ালা বাগেও দুঃখ, আতঙ্ক থেকে একটু মুক্তির আনন্দ খোঁজা মানুষের ভিড় বাড়ে। মঞ্চে শুরু হয় বৈশাখী উৎসবের আবহে একটি দ্রুতলয়ের ভাংরা তালের লোকগান।
তখন পঞ্জাব শাসনের ভার ছিল স্যর মাইকেল ফ্রান্সিস ও ড্যোয়ারের ওপর। তাঁর হেড অফিস লাহোরে। আন্দোলন বেড়ে উঠতে পরিস্থিতি নিয়ণ্ত্রণ করার অছিলায় তিনি ডেকে নিলেন আর এক অফিসার রেজিনাল্ড ডায়ারকে।
চলে এল বৈশাখী উৎসব ও মেলার দিন। ১৩ই এপ্রিল, ১৯১৯, জালিয়ানওয়ালাবাগে আয়োজন সুসম্পন্ন। হাজারে হাজারে আনন্দমুখর মানুষ, নারী, শিশু ঘুরে বেড়াচ্ছে বাগানে। ঐ মানুষগুলো কেউই জানতোনা, ধূর্ত ডায়ার সেদিন সকালেই এক নতুন নির্দেশ জারী করে অমৃতসরের রাস্তায় চারজন মানুষ একসঙ্গে হওয়া নিষিদ্ধ করেছে, কিন্তু সেই নির্দেশ প্রচার করেনি।
রেজিনাল্ড ডায়ার উৎসবে বিভোল মানুষকে সতর্ক করা তো দূর, বাগানের চারিদিকে সৈন্য আর সাঁজোয়া বাহিনী সাজিয়ে, নিরপরাধ আইনভঙ্গকারীকে সাজা দিলেন, বন্দুকের সমস্ত গুলি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরস্ত্র মানুষের ওপর নিরন্তর গুলিচালনার নির্দেশ দিয়ে। বুঝে ওঠার আগেই জীবনের সিংহ দরজা পেরিয়ে অমৃতলোকের পথে রওনা হল অমৃতসরের মানুষ। পিছনে পড়ে রইল নশ্বর দেহ, রুধির আর অশ্রুর মিলিত সিন্ধু। সেদিন দেহগুলিকে বাগানের বাইরে বার করা যায়নি, কারণ বেরোনোর সব পথ ছিল বন্ধ। আর বাইরে থেকেও কেউ আসতে পারেনি, কারণ কারফিউ, বেয়নেট আর বুটের চাপে কেউ রাস্তায় নামতে পারেনি। মঞ্চে এক এক করে প্রত্যক্ষদর্শীদের
বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছিল। সে বিবরণী কানে গরম লোহা হয়ে ঢুকে পড়ছিল, মনে হচ্ছিল কান চেপে ধরে চীৎকার করে উঠি, “আর না। ” কিন্তু সত্য থেকে পালিয়ে যাব কোথায়?
কানে ভেসে আসে ধীর লয়ের সুর, “শুভদিন নিশিদিন পরাধীন হয়ে ভ্রমিছ এই ভুবনে”।
পর্দায় ভেসে উঠেছে রেজিনাল্ড ডায়ারের মুখ, ও মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করেনা। মঞ্চে পড়ে শোনানো হচ্ছে ডায়ারের সেদিনের মিথ্যা ভরা রিপোর্ট, “সেদিন তিনি বাগানে ঢুকলেন। রাস্তা সরু, তাই সাঁজোয়া গাড়ি রেখে আসতে হয়েছিল। মাঠে ঢুকে দেখলেন উঁচু বেদীতে দাঁড়িয়ে একজন লোক হাত নেড়ে নেড়ে কিছু বোঝাচ্ছেন। শুনছেন হাজার পাঁচেক মানুষ, উপস্থিত ইংরেজ সৈন্যদের তুলনায় সংখ্যায় অনেক বেশী। বুঝলেন আইন ভঙ্গ করতেই জড় হয়েছে সকলে। এই স্পর্ধা মেনে নেওয়া যায়না। এমন কিছু করতে হবে যাতে এই স্পর্ধা ভারতবাসী আর দেখাতে না পারে। তিনি গুলির নির্দেশ দিলেন। ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ মারা যায়।” জোরের সঙ্গে তিনি মুখোমুখি বিচারসভাতেও বললেন, “১৬৫০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। যা করেছি, ঠিক করেছি। দ্বিতীয়বার আইন ভাঙার আগে ভারতীয়রা দুবার ভাববে”।
পঞ্জাবের এই কলঙ্কিত ইতিহাস কিন্তু বাকি ভারতবর্ষ তখনই জানতে পারলনা। কারণ অমৃতসর তখন দুর্গ, না ভিতর থেকে কেউ বাইরে যেতে পারছেন, না বাইরে থেকে কেউ পৌঁছতে পারছেন। কিন্তু সত্য চিরকাল চাপা থাকেনা। বেশ কিছুদিন পরে বাংলার প্রবাসী ও ভারতবর্ষ পত্রিকায় ছাপা হল পঞ্জাবের ঘটনার মর্মন্তুদ বর্ণনা ও ব্যাখ্যা। দেশের বাকি অংশেও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল এই খবর। সরলাদেবী চৌধুরানী তখন বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছিলেন লাহোরে। স্বামী রামভজ দত্ত চৌধুরী। তিনি ঐ ঘটনার অনেকদিন আগে থেকেই রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে অহিংস সত্যাগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি সত্যপাল ও সইফুদ্দিন কিচলুর গ্রেপ্তারের পরে যখন অনেকেই থমকে গিয়েছিলেন, তখনও তিনি একরোখা। কোনো কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। পরে তিনিও কারারুদ্ধ হন। সংবাদ পত্রে খবর প্রকাশের আগেই সরলাদেবীর চিঠি এসে পৌঁছোয় রবীন্দ্রনাথের কাছে। সেই চিঠিতেই রবীন্দ্রনাথ বিশদে জানতে পারেন এই নারকীয় ঘটনার কথা। বিধির কি অদ্ভুত সংযোগ, বিশ্বকবি ১২ই এপ্রিল ঐ ঘটনার একদিন আগেই গান্ধীজীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ইংরেজি সেই চিঠিটি মঞ্চে পড়ে শোনানো হয়। চোখ বুজে অনুভব করার চেষ্টা করি কবির বাণী। “Dear Mahatmaji power in all its form is irrational…. এটা যেন অনেকটা ছ্যাকরা গাড়ি টেনে চলা চোখে ঠুলি বাঁধা ঘোড়ার মতো। যিনি এই ঘোড়া গাড়ির চালক, একমাত্র তাঁর পক্ষেই কিছুটা নৈতিকতা বাঁচিয়ে রাখার সুযোগ থাকে।” অবাক হয়ে শুনি সত্যদ্রষ্টা কবির বাণী। এচিঠি কি সেদিনের জন্য লেখা নাকি আজকের জন্য। আজকের কোনো ক্ষমতাধরের কানে কি এবাণী পৌঁছবে? কানে ভেসে আসে, “passive resistance is a force which is not necessarily moral in itself, এটি সত্যের পক্ষে বা বিপক্ষে দুভাবেই ব্যবহৃত হতে পারে। ….যেকোনো ক্ষমতা বা শক্তির পথ সফল হলে তার প্রলোভন হয়ে ওঠার বিপদ বৃদ্ধি পায়।” হায় রে বিধি, পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা এ বাণী কেই বা মনে রাখবে? মনটা ভারি উচাটন করে। বুকের ভিতর উথাল পাথাল। প্রেক্ষাগৃহ কাঁপিয়ে বুকে এসে বেঁধে চেনা সুর – “বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান, তুমি কি এমনি শক্তিমান, ………” ঐ চিঠিটি কবি শেষ করেন একটি ইংরেজি কবিতা দিয়ে, যেটি আমরা সবাই আজ চিনি বাংলায় – “চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির”।
জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকাণ্ডের পরে সরলাদেবী চৌধুরানীর চিঠি পড়ে কেঁপে উঠেছিলেন কবি। সংবাদ পত্রে সব জানাজানির পরে একটি বেসরকারী তদন্ত কমিটি করে দীনবন্ধু এণ্ড্রুজ কে তার ভার দেওয়া হয়। কিছুদিনের মধ্যেই এণ্ড্রুজ জানিয়ে দেন সত্যভাষ্য, মৃতের সংখ্যা হাজারেরও বেশী। ডায়ারের বক্তব্য সর্বৈব মিথ্যা। এ এক ঠাণ্ডা মাথার পূর্ব পরিকল্পিত জঘন্য হত্যাকাণ্ড। বিনিদ্র রজনী যাপন করেন রবীন্দ্রনাথ। আবার চিঠি লেখেন গান্ধীকে। প্রস্তাব দেন, “চলুন আমি আপনি দুজনে যাই পঞ্জাবে, যদি অত্যাচারী ইংরেজ ঢুকতে না দেয়, তো একসঙ্গে কারাবরণ করব। এই হবে আমাদের প্রতিবাদ”। কিন্তু উত্তর আসে এই মর্মে যে গান্ধী এখন সরকারকে বিব্রত করতে চাইছেননা। হতাশ কবি কলকাতায় প্রতিবাদ সভা আয়োজন করতে চান, কিন্তু উপযুক্ত সাড়া না পেয়ে বিফল মনোরথ হন। নিজের মধ্যে আত্মস্থ হন কবি। কেউ যদি পাশে না থাকে তবে একাই কিছু করতে হবে। বিনিদ্র রাতের পরে আলোর দিশা দেখান ভারতমাতা। ইংরেজ সরকারকে চিঠি লেখেন রবীন্দ্রনাথ। বিশ্ব চমকে ওঠে পরাধীন দেশের কবির স্বাধীন উচ্চারণে। দেশের ভিতরে ও বাইরে ছড়িয়ে যায় খবর, জালিয়ানওয়ালা বাগের নারকীয় হত্যালীলার প্রতিবাদে নাইটহুড খেতাব ত্যাগ করেছেন রবীন্দ্রনাথ। ছোটোবেলা থেকেই শুনেছি এই তথ্য। কিন্তু তখন দেশমাতাকে বোঝার মতো, বিশ্বকবিকে অনুভব করার মতো বোধ তৈরি হয়নি, বড়বেলায় চর্চা করিনি, সব কিছু ভুলে শুধু আত্মস্বার্থে মগ্ন হয়ে ছিলাম। নিজের ওপর ধিক্কার আসে, কেমন যেন ঘোরের মধ্যে কানে ভেসে আসে,
“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে”। শ্রবণেন্দ্রিয়ে একটু অন্য কিছু ধরা পড়ে। আলগোছে দেখি পাশে কন্যা গলা মিলিয়েছে এই গানে।
বড়লাটকে লেখা সেই চিঠিটি পড়ে শোনানো হচ্ছে মঞ্চে। কাঁপা কাঁপা হাতে অনুষ্ঠানের চারপাতা লীফলেটটি চোখের সামনে ধরি। তার শেষ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত আছে ঐ চিঠিটি, অবিকল, ইংরেজিতে। কানে শোনার সঙ্গে সঙ্গে চিঠিতে চোখও বোলাই। স্ব স্ব ক্ষুদ্র স্বার্থের তাড়নায় দেশের দশের ইতিহাসকে তো ভুলেই থাকি সবসময়। এই যে কয়েক মুহূর্ত মনঃসংযোগ, এও যেন আমার আত্ম সংশোধন। শেষ লাইনটি পড়া হয়, তবু অনুভবের রেশ শেষ হবার নয়। কানে আসে ব্যথা ভরা গানের সুর। মঞ্চে প্রমিতাদি গাইছেন,
“আমি জ্বালবোনা মোর বাতায়নে প্রদীপ আনি ………”
জালিয়ানওয়ালা বাগে ভারতবাসীর আত্মত্যাগ বিফলে যায়নি, কারণ এর পরে অসহযোগ ও খিলাফৎ এই দুটি আন্দোলনই তীব্র আকার ধারণ করে। ১৯১১ এ বঙ্গভঙ্গ রদের পরে বাংলায় আবার দৃঢ় স্বরে বেজে ওঠে হিন্দু মুসলিম শিখ সবের সম্প্রীতির সুর।
মঞ্চে ধ্বনিত হল,
“একবার দেখ মা এবার দুয়ার খুলে …..”
জুন মাস থেকে গান্ধীজী ভাষণে এবং লিখিত বয়ানে ইংরেজ শাসকের দমননীতির তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। বিশেষ করে পঞ্জাবের সামরিক শাসন, ও দমন পীড়নের বিষয়ে বহু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান সংগ্রহ করেন তিনি। যথোপযুক্ত প্রমাণ সহযোগে কংগ্রেসের দাবী সনদ তৈরি করে দাবী জানান দুই ডায়ারকে যেন ইংরেজ সরকারের কোনো আধিকারিকের পদে বহাল না করা হয়। কিন্তু ভিনদেশী সরকার সে দাবী অগ্রাহ্য করে। দেশের মানুষের বুকে ধিকিধিকি জ্বলা তুষের আগুন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সেদিনের দৃশ্যপট আরও বাস্তব করে মঞ্চে শোনা যায়,
“তোদের বাঁধন যতই শক্ত হবে মোদের ততই বাঁধন টুটবে ……”
১৯১৯-২০ জুড়ে একের পরে এক ভারতীয় সংবাদ পত্রে বিভিন্ন ভাষায় জালিয়ানওয়ালা বাগের ঘটনার বর্ণনা ও ব্যাখ্যা ছাপা হল। ছোট বালক মদনমোহনের নিষ্প্রাণ দেহের ছবি দেখে পাঠকবর্গ শিউরে উঠলেন। এই মুদ্রণ সম্প্রচারের নেতৃত্বে ছিল প্রবাসী, ভারতবর্ষের মতো বাংলা সংবাদপত্রগুলি। সমালোচনামূলক তাদের দীর্ঘ প্রতিবেদনগুলি সমকালীন ভারতীয় মননকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। জনমানসে সেই বেদনার সুর জীবন্ত হয়ে ওঠে মঞ্চে। বৈকালীর পুরুষ সদস্যদের কন্ঠে বেজে ওঠে,
“এ ভারতে রাখো নিত্য প্রভু তব শুভ আশীর্বাদ”
৭ই জুলাই, ইংল্যান্ডের হাউস অফ কমন্স এ জেনারেল ডায়ারের কীর্তি সম্পর্কে একটি আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে বহু শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত ইংরেজ ভদ্রলোক এই কুকীর্তিকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন জানালেন। মানবতাবাদ মুখ ঢাকল, ইংরেজি নির্লজ্জতায়। ২২শে জুলাই বীতশ্রদ্ধ রবীন্দ্রনাথ লিখলেন,
“…The result of the Dyer debates in both houses of the parliament makes painfully evident attitudes and mind of the ruling classes of the country towards India. The unashamed conditions and brutality experienced in the speeches and according to their newspapers is ugly in its pridefulness”.
জহরলাল নেহরু যিনি নিজে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেছিলেন, তিনি লিখেছেন, “I realize then more vividly than I had ever done it before, how brutal and immoral imperialism was and how it had eaten the soul of the British upper classes”.
পঞ্জাবকেশরী লালা লাজপত রায় লিখলেন, “Benevolent imperialism is like a caged lion, however we will play with it, so long, as it is caged or under the spell of a master trainer. The moment it gets out of control, it is bound to become in conformity with its real nature. The atrocities perpetuated at Amritsar have trued that imperialism run mad is more dangerous, more vindictive, more inhumane for its uncontrollable nature”.
সমগ্র দেশবাসীর মনোভাব সুর হয়ে বেজে ওঠে মঞ্চে।
“এখন আর দেরী নয় ধরগো তোরা হাতে হাতে ধরো….. ”
১৩ই এপ্রিল, ১৯৪৩ এর জালিয়ানওয়ালাবাগ দিবসে আজাদ হিন্দ রেডিওতে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তৃতায় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু জানান, অমৃতসরের ঐ নৃশংস ঘটনা, ভারতীয়দের প্রতি বৃটিশদের স্বাধীনতা, শান্তি ও শৃঙ্খলা বিষয়ে মিথ্যা প্রবঞ্চনার প্রতীক। “….This bloody incident exposed all the hypocrisy of British Democracy. British pretended to fight the last war for the freedom of nations, to the right of self determination of people and for making the world safe for democracy” তিনি দৃঢ় স্বরে আরও জানান, যে, ডোমিনিয়ন স্টেটাস দেওয়া হবে ইংরেজের এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ভুলে ভারতীয়রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অনেক রক্ত ঝরিয়েছে। “…cold massacre of thousands of men, women and children gathered in the Jaliwanwala Bag was the brutal reply of Britain to peaceful demand of Human Rights”. বুক ভরা ব্যথার মাঝে কানে আসে।
“তোমারই তরে মা সঁপিনু এ দেহ তোমারই তরে মা সঁপিনু এ প্রাণ”।
ভারী মন গানের আবেশে গলে পড়ে। চমক ভাঙে প্রমিতাদির কন্ঠস্বরে। তিনি বলে চলেন বাগানের বয়ানে। কত রাত, কত দিন, অসহনীয় বেদনা বুকে নিয়ে আজও আছে সেই বাগান। দোষীরা আজ আর কেউ নেই। বিবেকহীন ডায়ার লন্ডনের রাস্তায় লুটিয়ে পড়েছেন ভারতীয় বিপ্লবীর গুলি খেয়ে সেই কোন যুগে। কালা কানুন উঠে গেছে ১৯২২ এ। কিন্তু একশ বছর পেরিয়ে আজও হাহাকার, আর ব্যথার স্মৃতি যেন এক জ্বলন্ত আগুনের শিখা হয়ে বেঁচে আছে মানুষের মনে। বলতে বলতে গায়িকা গান ধরেন। বলিষ্ঠ কন্ঠে গেয়ে ওঠেন,
“বিঘ্ন বিপদ দুঃখ দহন তুচ্ছ করিল যারা,
মৃত্যু গহন হইল, ছুটিল গ্রহ তারা
দিন আগত ঐ, ভারত তব কই”।
বৈকালীর সদস্যরা বারংবার ধুয়ো ধরেন।
“দিন আগত ঐ, ভারত তব কই”।
দিন আগত ঐ, ভারত তবু কই?
আমার জগৎ দুলতে থাকে, সেদিনে এদিনে মিলে যায়। চোখের সামনে ভাসতে থাকে সংসদে হামলা, তাজ হোটেলে হত্যাকাণ্ড, উরি, পুলওয়ামা থেকে নির্ভয়া, কাঠুয়া, শবরীমালা, গৌরী লঙ্কেশ।
জালিয়ানওয়ালাবাগে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বাহুবল তছনছ হয়ে যায় পরের আঠের বছরে।ক্ষমতার ভিত্তি নাড়িয়ে আমরা স্বাধীন হই, কিন্তু বিভক্ত হয়ে। আজও স্বাধীন ভারতে যখন মানবতার হানি হয়, বাগানের আত্মা প্রার্থনা করে শান্তির জন্য। কিন্তু আজকের ভারতবর্ষ কি কান পাতে সেই প্রার্থনা শোনার জন্য?
“বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি” এই গান গেয়ে কুশীলবেরা অনুষ্ঠান শেষ করেন। আর প্রমিতাদি উচ্চারণ করেন বৈদিক শান্তি মন্ত্র।
হয়তো পাঠকের মনে হবে একটি অনুষ্ঠানের ভাষ্যগুলির এত বিস্তার কী প্রয়োজন! কিন্তু মনে হয় এগুলি চর্চার দরকার। যদি এ লেখা পড়ে পাঠকের মনে কোনো অনুভূতি জেগে থাকে, তবে তার পিছনে অবদান আমার নয়, সম্পূর্ণ ভাবে সে কৃতিত্ব বৈকালীর। ঘটনার পারম্পর্য আর মনীষীদের বয়ানে যদি কোনো ভুল হয়, তবে সে দায় একান্তভাবে আমার। একদিনের একটি অনুষ্ঠান বেঁচে থাকে শুধু কুশীলব আর সেদিনের দর্শকের স্মৃতিতে। মানুষের আয়ু সীমিত আর স্মৃতির আয়ু আরও কম। কিন্তু এই বিশ্বমানবতার ভাবনা, একতার অনুভব, আত্মত্যাগের স্মরণ, দেশের ইতিহাস, পুরাণ, ঐতিহ্য এগুলির বারংবার ও সঠিক চর্চা আজকের যুগে বড় প্রয়োজন। কারণ এগুলির প্রতি আমাদের অনীহা দিয়ে নতুন প্রজন্মকে দুর্বল করছি আমরাই। বছর দুয়েক আগে আমার ছাত্র আজ আমারই সহকর্মী দেবব্রত স্নাতকোত্তর ভূগোল ক্লাসে Historical Geography পড়াতে গিয়ে জিজ্ঞেস করে বলতো রামের মায়ের নাম কী? কৌশল্যা নামটি ফিরে এলে বলতে পারতো রামের মা কোশল দেশের রাজকুমারী। এইভাবে ঐতিহাসিক নথি ছাড়াও পুরাণে বা মহাকাব্যে ভৌগোলিক উপাদান খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু না কিছুই বলা হয়না কারণ পুরো ক্লাস নিরুত্তর। স্নাতকোত্তরের ক্লাসে আমার একটি ছেলে কি মেয়ে রামের মায়ের নাম জানেনা। বাড়িতে আছে আমার আর এক মেয়ে। সেই কোন ছোটবেলায় উপনিষদের, মঙ্গলকাব্যের সরল গল্পের বই আমার মা আমার হাতে তুলে দিয়েছিল। আমিও দিয়েছি আমার কন্যাকে। কিন্তু হায়, আমার বই আমি গোগ্রাসে পড়েছি, আমার কন্যার বইগুলি এখনো নতুন। শেষে বেলুড় মঠ থেকে খুঁজে এনেছি ইংরেজিতে ছবিওলা রামায়ণের চটি বই, আর Divine Children নামে, ধ্রুব, প্রহ্লাদ আর নচিকেতার গল্প। হুইপ জারী করেছি অঙ্ক, ভূগোল নয়, ঐ বই থেকে পড়ে বলতে হবে একটি করে গল্প তবেই গরমের ছুটিতে, অভ্নি মল ঘোরা, কন্ঠ সিনেমা দেখা এসব হবে, নচেৎ নয়। তাও দুটির বেশি গল্প এগোয়নি। গত শতাব্দীতে ইংরেজের বিরুদ্ধে সর্বস্ব পণ করেছিল এই ভারত। আর আজকের দেশ কত সহজে তার নিজের সরল আর গভীর একতার ভাবনাগুলি ভুলে বিদেশী সংস্কৃতিকে আপন করেছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা রামচন্দ্রের কোমল মন, ভ্রাতৃস্নেহ, ন্যায় বিচার, পরোপকার, প্রজানুরঞ্জন, সর্বস্ব ত্যাগ বিষয়ে কিছুই জানেনা।সহস্র বছর ধরে ভারতীয় মানস অমঙ্গলের ভুত তাড়াতে রাম লক্ষণের নাম আশ্রয় করেছে। আর আজ রাম কে না জেনে কেউ সেই পরমাশ্রয়কে বিদ্রূপের হাতিয়ার করে। আমাদের মতো মধ্য বয়সীদের মনে ঝোড়ো সমুদ্রের ঢেউ ভাঙে, যুব মন নিস্তরঙ্গই থাকে।
প্রমিতাদি আপনি, এবং আপনার মতো গুণী মানুষেরা সুস্থ থাকুন। সুস্থ ভাবনা বারবার আমাদের মনে করিয়ে দিন। গত শতাব্দীর শুরুতে ছিল বিদেশী শাসন থেকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা পাওয়ার লড়াই। আজ বর্তমান শতাব্দীর শুরুতে লড়াই অন্য। কলেজের স্টাফরুমে দুটি হাসিমুখ উঁকি মারে। কি ব্যাপার? হজে গিয়েছিলাম ম্যাডাম, আপনার জন্য মক্কার পবিত্র জল এনেছি। অপর মুখটি বলে, আপনি খাজা খান ম্যাডাম? পুরী গিয়েছিলাম, নিয়ে এসেছি। মক্কার পবিত্র জল, আর পুরীর খাজা মিলে যায় ভালোবাসায়। আজ আমার লড়াই এই হাসিমুখদুটি এমনভাবেই পাশাপাশি রাখার জন্য, দুজনকেই থিওডোলাইট আর প্রিসম্যাটিক কম্পাস সার্ভেতে একইরকম দক্ষ করার জন্য। ভাঙা দেশের ঘরপোড়া মানুষ আমি। ৪৭ শে জন্ম হয়নি তো কী? অনুভবে বয়ে নিয়ে চলেছি গত প্রজন্মের যন্ত্রণা। তাই ভারতীয়ত্ব, বাঙালিয়ানা আর মানবতা ছাড়া হাসিমুখদুটির অন্য পরিচয় অস্বীকার করি আমি। এই সঙ্গীত সন্ধ্যাটি আমার আত্মানুসন্ধান উস্কে দেয়। আজ যতই অডিও ভিসুয়ালের যুগ আসুক, কলম সর্বযুগে শক্তিমান। সেই ভরসাতে জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের শতবর্ষের স্মরণে দেশমাতার চরণে আমার অঞ্জলি সমর্পণ করলাম।
কলমে ড. শারদা মণ্ডল